দোষী প্রমাণ হলে বেগম জিয়ার যে সাজা হবে

Published: 2018-02-08 04:05:55

প্রতীকী ছবি

নিউজ মিরর ডেস্ক : ১০ বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় হবে আজ। মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, আছেন তারেক রহমানও। এতিমখানার জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করবেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, খালেদা জিয়া তার প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম মেয়াদে ১৯৯১-১৯৯৬ সময়কালে এতিম তহবিল নামে সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় একটি হিসাব খোলেন। একটি বিদেশি সংস্থা ১৯৯১ সালের ৯ জুন ওই হিসাবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা দেয়।

ওই টাকা দীর্ঘ দুই বছর কোনো এতিমখানায় না দিয়ে জমা রাখা হয়। এরপর জিয়া পরিবারের তিন সদস্য তারেক রহমান, তার ভাই আরাফাত রহমান এবং তাদের ফুফাতো ভাই মমিনুরকে দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করে ওই টাকা তাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই ট্রাস্ট গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা মানা হয়নি। এছাড়া ট্রাস্টের ঠিকানা হিসেবে খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের ৬ নম্বর মইনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।

পরে ওই টাকা দুইভাগে ভাগ করে ট্রাস্টের বগুড়া ও বাগেরহাট শাখার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫’শ টাকা ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে বরাদ্দ দেওয়া হয় বগুড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে। ওই অর্থ থেকে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ট্রাস্টের নামে বগুড়ার দাঁড়াইল মৌজায় ২.৭৯ একর জমি কেনা হয়।

কিন্তু অবশিষ্ট টাকা এতিমখানায় ব্যয় না করে ব্যাংকে জমা রাখা হয়। ২০০৬ সনের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তা সুদে আসলে বেড়ে ৩ কেটি, ৩৭ লাখ ৭ শ ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা হয়।

এজাহারে বলা হয়, ২০০৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মমিনুর রহমানকে দিয়ে তিন কিস্তিতে ছয়টি চেকের মাধ্যমে তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা তুলে প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করেন। এরপর ওই টাকা কাজী সালিমুল হক কামাল ও অন্যদের মাধ্যমে সরিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করা হয়।

মামলায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে ‘নাম সর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। অপরাধের সময়কাল বলা হয় ১৯৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ২০০৭ সালের ২৮ মার্চের মধ্যে।

মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯ ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষী দিয়েছেন ৩২ জন।

আইন অনুযায়ী যদি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হয় তাহলে আদালতে তাকে সসম্মানে খালাস প্রদান করবেন। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন থেকে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড দিতে পারেন আদালত। অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন।

দণ্ডবিধি ৪০৯ ধারা
দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা (যাবজ্জীবন অথবা দশ বছরের কারাদণ্ড)। সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অথবা ব্যাংকার, ব্যবসায়ী বা প্রতিনিধি কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ (Criminal Breach of Trust bu public servant, or by banker, merchant or agent) : কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার পদমর্যাদা বলে অথবা ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, ফ্যাক্টর, দালাল বা প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসা সূত্রে কোনোভাবে কোনো সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে বা ওই সম্পত্তির পরিচালনের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলকভাবে বিশ্বাস ভঙ্গ করে।

এ ধারার শাস্তি : যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা দশ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন, অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

দণ্ডবিধি ১০৯ ধারা
দুষ্কর্মে সহায়তা করা হয়েছে, সহায়তার দরুন সে কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকলে এবং সেক্ষেত্রে দণ্ডদানের কোনো স্পষ্ট বিধান না থাকলে অনুরূপ সহায়তার সাজা।

দুদক আইনের ৫ (২) ধারা
দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় (সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড) ‘কোনো সরকারি কর্মচারী অপরাধমূলক অসদাচরণ সংঘটিত করলে বা উদ্যোগ গ্রহণ করলে সে সাত (০৭) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডযোগ্য হবে এবং অপরাধমূলক অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট অর্জিত সম্পদ অথবা সম্পত্তি ও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।’

দণ্ডপ্রাপ্ত হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হবেন
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হলে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া। পাঁচ বছরের জন্য সরকারি পদ গ্রহণে অযোগ্য হবেন।

তবে সাজা হলে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া। আপিল আবেদন গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের সাজা স্থগিতের এখতিয়ার রয়েছে হাই কোর্টের। সে ক্ষেত্রে জামিনের বিধান রয়েছে। তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা থাকবে না।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •    জকিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করলো মসজিদের ইমাম!
  •    ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে ‘ধর্ষণ’, আটক ডাক্তারকে জেলে প্রেরণ
  •    ক্রোয়াটদের কাঁদিয়ে ফ্রান্স দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
  •    কাউন্সিলর প্রার্থী এবি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বলের গনসংযোগ
  •    তামাবিল দিয়ে তিন বাংলাদেশীকে ফেরত দিল বিএসএফ
  •    ‘হবিগঞ্জের মতো সিলেটেও বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন’
  •    সিলেট এসেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক শামীম
  •    ইনসাফ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে টেবিল ঘড়ির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে
  •    জগন্নাথপুরে শাহজাহানকে অপহরনের পর নৃশংসভাবে হত্যা
  •    নগরীতে তীর শিলং খেলার অভিযোগে আটক ৭
  •    নগরীতে যুবলীগ-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
  •    নগরীর রায়নগরে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, সৎ বাবা গ্রেপ্তার
  •    সোনারপাড়ায় কাউন্সিলর প্রার্থী স্বপ্নার গণসংযোগ
  •    রায়হুসেন-কলবাখানী এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী রুবেলের গণসংযোগ
  •    এবার বাস প্রতীকে ভোট চেয়ে মাঠে সেলিম পত্নী হেনা
  • সাম্প্রতিক আইন আদালত খবর

  •   জালালাবাদ এলাকা থেকে ৩ গাড়ি চোর গ্রেফতার, জীপ উদ্ধার
  •   ক্বীন ব্রিজে যাত্রী হয়রানি : এসএমপি’র দুই পুলিশের শাস্তির দাবি
  •   সিসিক নির্বাচন : আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  •   মৌলভীবাজারে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
  •   জকিগঞ্জে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফারুক গ্রেফতার
  •   নগরীতে ভ্রাম্যমাণ র‌্যাব-৯ এর আদালতে ১১ মাদকসেবীর দণ্ড
  •   সিলেটে হত্যা মামলায় ৮ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  •   ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে
  •   ধর্ষণ মামলায় রাজনগর থানার এএসআই তাহের কারাগারে
  •   দেশের প্রথম নারী সলিসিটর সুনামগঞ্জের জেসমিন আরা বেগম
  •   গোলাপগঞ্জ থানায় বিত্তবানদের জামাই আদর
  •   বার কাউন্সিলের এডভোকেটশীপ লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ক কর্মশালা
  •   কোম্পানীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আলতাফ হোসেন কারাগারে
  •   সিলেটে ৯ মাদকসেবীকে কারাদন্ড
  •   সিলেটে ৮ কেজি হেরোইন পাচাঁর মামলায় দুই জনের মৃত্যুদন্ড