একনজরে খালেদা জিয়া

Published: 2018-02-08 18:31:34

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট, নিউজমিরর :: খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডিত হয়ে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে জায়গা হয়েছে ৭৩ বছরের এ নারী রাজনীতিকের।
খালেদা জিয়ার জীবন ঘটনাবহুল। ব্যবসায়ী পিতার কন্যা সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে।

স্বাধীনতাযুদ্ধের দিনগুলোতে বন্দিজীবন কাটানো দুই সন্তানের মা খালেদা জিয়া দেশের সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে বর্ণাঢ্য জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

আবার স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে অল্প বয়সে বিধবা হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে জীবন সংগ্রাম শুরু করতে না করতেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

তেমন কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির হাল ধরেন তিনি।

রাজনীতিতে বেশ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। চারবারের সংসদে পাঁচটি করে আসনে বিজয়ী হন তিনি। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনবার দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন।

আবার খালেদা জিয়ার সব সরকারই কমবেশি নানা বিতর্ক ও ব্যর্থতার জন্য আলোচিত-সমালোচিত। যার জের ধরে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যেতে হল তাকে।

একনজরে খালেদা জিয়া খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়ি জন্মগ্রহণ করেন।

তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজীতে। পিতা ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার দিনাজপুরের চন্দবাড়ির মেয়ে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

খালেদা জিয়ার শৈশব ও কৈশোর পার করেছেন দিনাজপুরের মুদিপাড়া গ্রামে।

১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশনে উত্তীর্ণ হন খালেদা খানম পুতুল। পরে তিনি দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন । কলেজে পড়ার সময় তখনকার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

১৯৬৫ সালে স্বামীর সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানে যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে ছিলেন। এর পর ঢাকায় আসেন। কিছু দিন জয়দেবপুর থাকার পর জিয়াউর রহমানের পোস্টিং হলে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় চলে যান।

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া দম্পতির দুই সন্তান তারেক রহমান পিনু আর প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি কিছু দিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড়বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত ছিলেন। ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীতে এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাকসেনারা তাকে ও তার দুই ছেলেকে বন্দি করে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন।

ছোট ছেলে কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন।

স্বামী নিহত হওয়ার আগপর্যন্ত গৃহবধূই ছিলেন খালেদা জিয়া। দুই ছেলেকে লালন-পালন ও ঘরের কাজ নিয়েই সময় কাটাতেন।

জিয়াউর রহমান দেশের প্রেসিডেন্ট হলেও রাজনীতিতে তার উপস্থিতি ছিল না। পরে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বানে বিএনপির হাল ধরেন তিনি। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একসময় তাকে রাজনীতিতে নামতে হয়েছে।

নীতি ও আদর্শে অটুট থাকায় তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি একটানা ৩২ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। বছরখানেক যেতে না যেতেই নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় প্রশংসা অর্জন করেন।

পরের বছর মার্চে তিনি দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদোন্নতি পান। এক মাস পর ১ এপ্রিল তিনি দলের বর্ধিতসভায় প্রথম বক্তৃতা করেন।

বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হলে তিনি ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং একই বছরের ১০ মে চেয়ারপারসন পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

১৯৯৩ সালে ১ সেপ্টেম্বর দলের চতুর্থ কাউন্সিলে দ্বিতীয়বার, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তৃতীয়বার এবং ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের দশম কাউন্সিলে চতুর্থবারের মতো বিএনপির চেয়ারপারসন হন।

বিএনপির দায়িত্ব নেয়ার পরই নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েন খালেদা জিয়া। দল ঐক্যবদ্ধ রেখে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে কোনো রকম সমঝোতা না করেই আপসহীন আন্দোলন করে গেছেন। ফলে এরশাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে।

১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাত-দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই বছর সেপ্টেম্বরে জোটের মাধ্যমে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন।

১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফায় আন্দোলন চলতে থাকে। ওই বছর ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতেও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দমে যাননি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দল ভেঙে আট দল ও পাঁচ দল হয়ে যায়। ৮ দল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাত ও পাঁচ দল নতুন করে আন্দোলন শুরু করে।

১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। একটানা নিরলস ও আপসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার ও ২০০১ সালে জোটগতভাবে নির্বাচন করে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

খালেদা জিয়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) দুবার চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার একটি অনন্য রেকর্ড হচ্ছে- পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে ২৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কটিতেই তিনিই জয়ী হয়েছেন।

সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়াকে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর তিনি আইনি লড়াই করে সব কটি মামলায় জামিন নিয়ে মুক্তিপান। কারাগারে থাকাকালে তাকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হন। খালেদা জিয়ার অভিযোগ, বলপ্রয়োগে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তিনি ওই বাড়িটিতে ২৮ বছর ছিলেন। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার সেনানিবাসের বাড়িটি তার নামে বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয়ে পরের বছর ১১ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্টের আদেশে মুক্তিপান।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •    জগন্নাথপুর থেকে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
  •    সিলেটে ওয়াকফের জমি দখলমুক্ত করলো উপজেলা প্রশাসন
  •    সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে শহীদ আরেফের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হবে : লোকমান আহমদ
  •    সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর গ্রেফতার
  •    হযরত শাহপরান (র.) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি
  •    হাওলাদারপাড়া সমাজকল্যাণ যুব সংঘের নয়া কমিটি
  •    নগরীতে ফেন্সিডিল ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
  •    বিশ্বনাথে বখাটের যন্ত্রনায় কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা : ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
  •    ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন
  •    মঙ্গলবার সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি
  •    কানাইঘাটে জাহানারা খুনের দায়ে ৩ জনকে আসামী করে মামলা
  •    তানিম ও মিয়াদের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
  •    গোলাপগঞ্জে অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক
  •    গোলাপগঞ্জে ৩ দিন আটকে যুবতীকে ধর্ষণ, আটক ১
  •    সাংবাদিকদের জন্য শিথিল হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
  • সাম্প্রতিক জাতীয় খবর

  •   প্রশ্নফাঁস তদন্তে দুই কমিটি গঠন করলেন হাইকোর্ট
  •   দুর্নীতিবাজদের বিচার হতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  •   হাসিনার বদলে খালেদার নামে দোয়া, মসজিদের ইমাম আটক
  •   সিলেট ও রংপুরে শ্রম আদালত স্থাপন করা হবে : শ্রম প্রতিমন্ত্রী
  •   প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যর্থতা, শিক্ষামন্ত্রীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ চেয়ে নোটিশ
  •   আগামীতে বই খুলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ!
  •   টিভি দেখায় ব্যস্ত মেয়ে, তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে ছাই মা
  •   খালেদা জিয়াকে আরও তিন মামলায় গ্রেফতার দেখাবে পুলিশ
  •   আরও সময় লাগবে বেগম জিয়ার জামিন আবেদনে
  •   কারাগারে কয়েদি পোশাক পড়লেন খালেদা জিয়া
  •   ৬৩২ পৃষ্টার রায়ে ১১ পয়েন্টে খালেদা জিয়ার দন্ড
  •   সংসদ নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ খালেদা জিয়া, তবে ...
  •   তিন বেলা খাবারের জন্য দিনে বরাদ্দ ১১৫ টাকা
  •   খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস আটক
  •   খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর ও তারেক রহমানের ১০ বছরের কারাদণ্ড