৬৩২ পৃষ্টার রায়ে ১১ পয়েন্টে খালেদা জিয়ার দন্ড

Published: 2018-02-08 19:40:05

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট, নিউজমিরর :: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আজ বিচারক রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়ে শুনিয়েছেন। এতে ১১টি পয়েন্ট ছিল।
রায়ে আদালত বলেছেন, ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যমতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ হয়েছে। খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনা করে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
১১ পয়েন্টের মধ্যে ছিল অর্থ আত্মসাতের হয়েছে কিনা, খালেদা জিয়া এতে জড়িত কিনা, অন্য আসামিরা কিভাবে জড়িত প্রভৃতি।
তবে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তাতে তার অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার রায়ে ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে তাতে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তাই কেন তাকে এ সাজা দেয়া হয়েছে সেটা বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, এ রায়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায়। জনগণ থেকে খালেদা জিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতেই এ মামলা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি তিনি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন।

কারাগারে খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে নেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী গাড়িটি কারাগারে প্রবেশ করে।

খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক রহমান এবং অপর দুই আসামি মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার করে জরিমানা করেছেন বিচারক।

রাজধানীর বকশীবাজারস্থ আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ম বিশেষ জজ আদালতে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে খালেদা জিয়া
এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় শুনতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ৪৮ মিনিটে আদালতে হাজির হন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার সাথে আদালতে প্রবেশ করতে দেয়া হয় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. হাফিজ উদ্দিন ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।

এর আগে গুলশানের বাসা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিটে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। আদালতের পথে রওয়ানা দেবার পর তার গাড়িবহরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মগবাজার মোড়ে তার গাড়িবহর পৌঁছার পর নেতা-কর্মীদের ঢল নামে।

খালেদার গাড়িরবহরে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর কাকরাইলে টিয়ার সেল নিক্ষেপ

খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বেলা ১টার দিকে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের কাছে পৌঁছালে তার গাড়ির বহরে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ টিয়ার সেল ছোঁড়ে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

এসময় কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন দেয়া হয়। পরে ভিড় অতিক্রম করে খালেদার জিয়ার গাড়ি ধীরে ধীরে আদালতে পৌঁছান।

কারাগারে থাকা মামলার আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামালকে আদালতে হাজির করা হয়

মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতের আশপাশ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।

গত ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩ , ৪, ১০ ও ১১ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্ত উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। এরপর ১৬ জানুয়ারি শেষ হয় তার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।

প্রায় ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকার সময় এই মামলাটি করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দেয়া হলেও, তা এতিম বা ট্রাস্টের কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরং সেই টাকা নিজেদের হিসাবে জমা রাখার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আসামি কারা
দুর্নীতি দমন কমিশনের তখনকার উপ সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ (বর্তমানে উপ-পরিচালক) এ মামলার এজাহারে খালেদা জিয়াসহ মোট সাতজনকে আসামি করেন।

বাকি ছয়জন হলেন- খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক (ইকোনো কামাল), সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়ীদ আহমেদ।

দুদক কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট আদালতে যে অভিযোগপত্র দেন, সেখান থেকে গিয়াস উদ্দিন ও সায়ীদ আহমেদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

তাদের অব্যাহতির কারণ হিসেবে বলা হয়, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ অনেক আগে থেকে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অভিযোগে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমান পাওয়া যায়নি। আর সায়ীদ আহমেদ নামে কারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সাবেক সাংসদ কামাল জালিয়াতি করে ট্রাস্টের কাজে ওই দুই জনের নাম ব্যবহার করেছেন।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •    জগন্নাথপুর থেকে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
  •    সিলেটে ওয়াকফের জমি দখলমুক্ত করলো উপজেলা প্রশাসন
  •    সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে শহীদ আরেফের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হবে : লোকমান আহমদ
  •    সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর গ্রেফতার
  •    হযরত শাহপরান (র.) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি
  •    হাওলাদারপাড়া সমাজকল্যাণ যুব সংঘের নয়া কমিটি
  •    নগরীতে ফেন্সিডিল ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
  •    বিশ্বনাথে বখাটের যন্ত্রনায় কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা : ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
  •    ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন
  •    মঙ্গলবার সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি
  •    কানাইঘাটে জাহানারা খুনের দায়ে ৩ জনকে আসামী করে মামলা
  •    তানিম ও মিয়াদের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
  •    গোলাপগঞ্জে অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক
  •    গোলাপগঞ্জে ৩ দিন আটকে যুবতীকে ধর্ষণ, আটক ১
  •    সাংবাদিকদের জন্য শিথিল হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
  • সাম্প্রতিক জাতীয় খবর

  •   প্রশ্নফাঁস তদন্তে দুই কমিটি গঠন করলেন হাইকোর্ট
  •   দুর্নীতিবাজদের বিচার হতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  •   হাসিনার বদলে খালেদার নামে দোয়া, মসজিদের ইমাম আটক
  •   সিলেট ও রংপুরে শ্রম আদালত স্থাপন করা হবে : শ্রম প্রতিমন্ত্রী
  •   প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যর্থতা, শিক্ষামন্ত্রীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ চেয়ে নোটিশ
  •   আগামীতে বই খুলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ!
  •   টিভি দেখায় ব্যস্ত মেয়ে, তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে ছাই মা
  •   খালেদা জিয়াকে আরও তিন মামলায় গ্রেফতার দেখাবে পুলিশ
  •   আরও সময় লাগবে বেগম জিয়ার জামিন আবেদনে
  •   কারাগারে কয়েদি পোশাক পড়লেন খালেদা জিয়া
  •   সংসদ নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ খালেদা জিয়া, তবে ...
  •   তিন বেলা খাবারের জন্য দিনে বরাদ্দ ১১৫ টাকা
  •   খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস আটক
  •   একনজরে খালেদা জিয়া
  •   খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর ও তারেক রহমানের ১০ বছরের কারাদণ্ড