সিলেটে ধর্ষণে জড়িয়ে পড়ছেন গৃহশিক্ষকরা

Published: 2018-04-09 01:24:55

প্রতীকী ছবি

এহিয়া আহমদ : সিলেটে শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও তাহিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গৃহ শিক্ষকসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিলেটে সদর উপজেলায় গৃহ শিক্ষকতা শুরুর পরদিনই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গৃহ শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা নতুন না হলেও উদ্বেগ বেড়েছে। বখাটে গৃহ শিক্ষক নামধারীদের হাতে নিরাপদ থাকছে না শিশু শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে মূল্যবোধের অবক্ষয়কে দায়ি করছেন সুশীল সমাজ। তারা বলছেন, ধর্ষকরা বিকৃত রুচির। এক্ষেত্রে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতাই পারে এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা রোধ করতে।

সিলেটে মা-ছেলে হত্যা ও হবিগঞ্জের আলোচিত কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশু। নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন গোয়াবাড়ি জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটায় মাহিন মিয়া (২০) নামের এক প্রাইভেট শিক্ষক। সে জাহাঙ্গীর নগর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। লম্পট এই গৃহ শিক্ষককে গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ৮টায় ঘটনাটি ঘটলেও শনিবার এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে মাহিনের কাছে প্রাইভেট পড়া শুরু করে শিশুটি। পরদিন ২ এপ্রিল রাত ৮টায় প্রাইভেট পড়তে গেলে মুখচাপা দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে মাহিন। বর্তমানে শিশুটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন।

শিশুটির বাবা বলেন, ঘটনার দিন তিনি কাজের সুবাদে কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। তার মেয়ে ওই এলাকার একটি মাদরাসায় শিশু ওয়ানে পড়ে। ১ এপ্রিল থেকে শিশুটি মাহিনের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়া শুরু করে। ২ এপ্রিল পড়তে গেলে তার শিশু কন্যাকে মুখে চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে মাহিন। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি তার মায়ের কাছে কেঁদে কেঁদে ঘটনার বর্ণণা দেয়। গত শুক্রবার তিনি সিলেটে ফেরার পর মেয়েকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসিসিতে ভর্তি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় মামলা দায়ের করতে এয়ারপোর্ট থানায় আসেন তিনি। এমন সময় বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীকে মারধর করেন মাহিনের বাবা মোহাম্মদ আলী।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালের ওসিসি’র তথ্য প্রমাণসহ শিশুটির বাবার দেওয়া অভিযোগ পেয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিকে রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে তাহিরপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে হযরত আলী (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে পরিবার। গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাকমা নয়াপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানান ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অতিরিক্ত উপ পরিদর্শক (এএসআই) ইমাম  হোসেন। আটক হযরত আলী উপজেলার লাকমা পূর্বপাড়ার গ্রামের মৃত নানু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে উপজেলার লাকমা পুর্বপাড়ার গ্রামের মৃত নানু মিয়ার ছেলে হযরত আলী একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধার বসত ঘরে ডুকে ১৮ বছরের কন্যাকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এসময় মেয়েটির পরিবার ঘটনাটি টের পেয়ে হযরত আলীকে সেই ঘরেই আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির অতিরিক্ত উপ পরিদর্শক (এএসআই) ইমাম হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এইদিকে আটককৃতর পরিবার জানায়, মুক্তিযোদ্ধার কন্যার সঙ্গে হযরত আলীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। শনিবার রাতে দেখা করতে গেলে ভিকটিমের পরিবার হযরত আলীকে আটক করে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

ইমাম হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে হযরত আলীকে আটক করে তাহিরপুর থানায় সোপর্দ করে। দুই পরিবারের লোকজন থানায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিলে নগরীর টুকের বাজারের খালিগাঁও গ্রামে শিক্ষক কর্তৃক দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টুকেরবাজারের খালিগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে প্রায় আধা ঘন্টা সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থাণীয় সূত্রে জানা গেছে, টুকের বাজারের খালিগাঁও গ্রামের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন শিক্ষক রাজা মিয়া (২৭)। সোমবার সন্ধ্যায় রাজা মিয়ার কাছে প্রাইভেট পড়তে আসা অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ২য় শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে ছুটি না দিয়ে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ওই স্কুল ছাত্রী ঘরে না ফেরায় মা-বাবা ঘটনাস্থলে পৌছে মেয়েকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

এমন খবর আশপাশে ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবীতে সোমবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক প্রায় আধাঘন্টা অবরোধ করে রাখে। পরে টুকের বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে ওই স্কুল ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিলেট জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন জানান, ২য় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিয়োগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ওসিসিতে ভর্তি আছে। তিনি ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানান।

২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবরে সিলেটের কানাইঘাট চরিপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন কর্তৃক স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে পুরো এলাকায় তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে তদন্ত পূর্বক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ঐ ছাত্রীসহ আরো একজন ছাত্রী গত দু’মাস থেকে শিক্ষক ইসলাম উদ্দিনের কাছে স্কুলের ক্লাস শেষে প্রাইভেট পড়ত। বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়ানোর আশ্বাস দিয়ে দরিদ্র পরিবারের এই ছাত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন। একপর্যায়ে ঘটনাটি এলাকায় জানা জানি হলে গত বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার কার্যালয়ে হাজির হয়ে ধর্ষিতা ছাত্রী ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাটির বর্ণনা করেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা ছাত্রীর জবানবন্দী শুনে বলেন, উভয়ের সম্মতিতে ও মেয়েটির সচেতনতার অভাবে শিক্ষক এ সুযোগ নিয়েছে।  বিষয়টি কতটুকু সত্য আমি জানি না, তারপরেও শিক্ষার্থীদের আরো সচেতন হতে হবে। তদন্ত পূর্বক শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন এ ঘটনার জন্য দায়ী থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরে নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষিতা অষ্টম শ্রেণির ঐ ছাত্রী বাদী হয়ে শিক্ষক ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন, চরিপাড়া স্কুল এন্ড কলেজ কানাইঘাটে একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখানে মাঝে মধ্যে কিছু জঘণ্য ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। ছাত্রীরা যৌন নির্যাতনের স্বীকার হন। স্কুলের শিক্ষকরা এসব ঘটনা প্রতিরোধে কোন ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্কুলের সহকারী শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের সর্বশেষ ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ধরে রাখার জন্য স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের এ ব্যাপারে কঠোর সিন্ধান্ত নিতে হবে। নানা প্রলোভন দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে বার বার অবৈধ সম্পর্কের দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইসলাম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করার একটি কু-চক্রী মহল ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে আমার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তিনি ঐ ঘটনার সাথে কোন ভাবে জড়িত নয় দাবী করে বলেন, এই মেয়েটির সম্পর্ক অন্য ছেলের সাথে রয়েছে। আমার জানামতে মেয়ের বড় ভাই ও নিকটাত্মীয়রা মিলে জোরপূর্বক ভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিতে তাকে বাধ্য করেছে।

ঐ ছাত্রীর বড় ভাই জানিয়েছেন, শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন তার সহজ সরল কিশোরী বোনের সরলতার সুযোগ নিয়ে বার বার তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ ঘটনাটি জানে। ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য তার বোন আইনের আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি জানান।

সূত্রে জানা যায়, মোবাইলে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের পর্নোগ্রাফি দেখার আসক্তি বেড়ে যাচ্ছে তরুণ ও যুবসমাজে, যা মাদকের আসক্তির চেয়েও ভয়াবহ। মূলত পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি থেকেই ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হচ্ছে ধর্ষকেরা। ফলে পর্নোগ্রাফি ঘটনাগুলো বন্ধে সরকারের বিশেষ নজর দেয়া উচিত। তা না হলে, মায়ের/নারীর/মেয়ের/বোনের প্রতি এই পাশবিকতা কখনোই নির্মূল করা যাবে না।

সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেতে আইনে তাৎক্ষণিক প্রয়োগ, বিভিন্ন ধরনের পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধ এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশাসন এবং নীতি নৈতিকতার অভাবকেও দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞেরা।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, মানুষের নৈতিক স্খলন থেকেই এমনটা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। যার কারণে ধর্ষকেরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ ছাড়া বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার অভাব ও পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতার কারণে শিশু ধর্ষণের ঘটনা দিনদিন বাড়ছে। দরিদ্র শ্রেণীর শিশু, শ্রমজীবী বাবা-মা, যারা কাজের কারণে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন তাদের একাকী থাকা সন্তান ও শ্রমজীবী শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বেশি। সামাজিক অবস্থান, লজ্জা ও ভয়ের কারণে ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশ থানা পর্যন্ত যেতে পারছে না। ফলে বিচার না হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা আরো বাড়ছে। বছরের পর বছর আদালতে মামলা চলায় ভুক্তভোগীরা বিচার পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ছেন। অনেক প্রভাবশালী মামলা মিটমাট করে দিচ্ছে। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার হয়ে দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে অপরাধীরা ভয় পেত এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা কমে যেতো। সমাজে নারীকে আমরা পণ্য হিসেবে দেখছি। দৈহিক আগ্রহ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সমাজে বিবাহ-পরবর্তী নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ককে আমরা উৎসাহিত করি। তবে বর্তমানে ছোট ছোট শিশু পয়সা তুলে মোবাইল কিনে তাতে পর্নোগ্রাফি দেখছে। সেখানে তারা আকৃষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের ধারাবাহিকতায় এর মাধ্যমে একটা প্রজন্ম গড়ে ওঠে। যারা বোঝে না যে দৈহিক চাহিদা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ফলে এগুলোর মাধ্যমে একটা আসক্ত প্রজন্ম সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতাহীনরা ধর্ষণের শিকার হন। আর যারা ধর্ষণ করে তারা সমাজে ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী। সে ক্ষেত্রে কেসটা অনেক সময় দুর্বল হয়ে যায়। এভাবে অনেক সময়ই বিচার থেকে দুর্বলরা বঞ্চিত হন। তা ছাড়া মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পক্ষে পুরো মামলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ জন্য বহুদিন থেকেই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করার কথা বলা হলেও তা নিশ্চিত হচ্ছে না। অনেক সময় অপরাধীদের এনকাউন্টারে ফেলে দেয়া হচ্ছে। ফলে পুরো ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হয় না। তাদের আইনের অধীনে এনে বিচার করা জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত ছয় বছরের চার হাজার ৬১৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে দুই হাজার ৩০৮ জন। ২০১২ সালে ধর্ষণের শিকার ৮০৫ জনের মধ্যে ৪৭৩ জন শিশু। ২০১৩ সালে ধর্ষণের শিকার ৮১৪ জনের মধ্যে ৪৫২ জন শিশু; ২০১৪ সালে ৬৬৬ জনের ৩৯৩ জন শিশু; ২০১৫ সালে ৭৮৯ জনের ৪৭৯ জন শিশু। ২০১৬ সালে ধর্ষণের শিকার ৭৫৭ জনের মধ্যে ৫১১ জনই শিশু। ২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮৩ জন। চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে ৪০ জন ধর্ষণের শিকার হয়, এর মধ্যে ২৮ জন শিশু। ফেব্রুয়ারিতে ৭০ জন ধর্ষণের শিকার হয়, এর মধ্যে ৪৮ জন শিশু। মার্চ মাসে ৫৯ জন ধর্ষণের শিকার হয়, তার মধ্যে ৪৩ জনই শিশু।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) গত দুই বছরের (২০১৬-২০১৭) পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে। গত দুই বছরে এক হাজার ৫৪২ জন। এর মধ্যে গত ছয় বছরের নিচে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১২২ জন শিশুকন্যা। ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে ৩২২ জন শিশু, ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে ৪২৪ জন। ১৭ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে ৬৩ জন। ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩০ জন ধর্ষণের শিকার হয়। এ ছাড়া ৩০ বছরের ওপরে ২৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪০৩ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৮৪ জনকে এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে ১১ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিশুকন্যা।

 

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •    জকিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করলো মসজিদের ইমাম!
  •    ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে ‘ধর্ষণ’, আটক ডাক্তারকে জেলে প্রেরণ
  •    ক্রোয়াটদের কাঁদিয়ে ফ্রান্স দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
  •    কাউন্সিলর প্রার্থী এবি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বলের গনসংযোগ
  •    তামাবিল দিয়ে তিন বাংলাদেশীকে ফেরত দিল বিএসএফ
  •    ‘হবিগঞ্জের মতো সিলেটেও বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন’
  •    সিলেট এসেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক শামীম
  •    ইনসাফ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে টেবিল ঘড়ির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে
  •    জগন্নাথপুরে শাহজাহানকে অপহরনের পর নৃশংসভাবে হত্যা
  •    নগরীতে তীর শিলং খেলার অভিযোগে আটক ৭
  •    নগরীতে যুবলীগ-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
  •    নগরীর রায়নগরে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, সৎ বাবা গ্রেপ্তার
  •    সোনারপাড়ায় কাউন্সিলর প্রার্থী স্বপ্নার গণসংযোগ
  •    রায়হুসেন-কলবাখানী এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী রুবেলের গণসংযোগ
  •    এবার বাস প্রতীকে ভোট চেয়ে মাঠে সেলিম পত্নী হেনা
  • সাম্প্রতিক সিলেট খবর

  •   জকিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করলো মসজিদের ইমাম!
  •   তামাবিল দিয়ে তিন বাংলাদেশীকে ফেরত দিল বিএসএফ
  •   জগন্নাথপুরে শাহজাহানকে অপহরনের পর নৃশংসভাবে হত্যা
  •   নগরীতে তীর শিলং খেলার অভিযোগে আটক ৭
  •   নগরীতে যুবলীগ-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
  •   নগরীর রায়নগরে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, সৎ বাবা গ্রেপ্তার
  •   সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৪২
  •   ফটো সাংবাদিক কয়েছের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর
  •   রথ মেলা থেকে জুয়ার বোর্ড উচ্ছেদ, আটক ৯
  •   বন্দরবাজার থেকে অপহরণকারী আটক, কিশোরী উদ্ধার
  •   বড়লেখায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
  •   গোলাপগঞ্জে বৃদ্ধ খুন
  •   মৌলভীবাজারে সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ২
  •   ছাতকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
  •   গোয়াইনঘাটে ইয়াবাসহ আটক ১